বাংলাদেশে জমি-জমা নিয়ে সমস্যার শেষ নেই। কখনো মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, আবার কখনো সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ – এসবের মূল সমাধান আসে ভূমি জরিপের মাধ্যমে। ভূমি জরিপ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে জমির সঠিক পরিমাণ, সীমানা, মালিকানা ও নকশা তৈরি করা হয়। পরে এসব তথ্য খতিয়ান ও মানচিত্র আকারে সংরক্ষণ করা হয়।
ভূমি জরিপ কত প্রকার ও কি কি
বাংলাদেশে সাধারণত চার প্রকার ভূমি জরিপ পরিচালিত হয়েছে। প্রতিটি জরিপের আলাদা বৈশিষ্ট্য, সময়কাল এবং উদ্দেশ্য রয়েছে। চলুন একে একে দেখে নেই।
ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (CS Survey)
বাংলাদেশে প্রথম বৃহৎ পরিসরে পরিচালিত ভূমি জরিপ হলো CS Survey। এটি ব্রিটিশ আমলে সম্পন্ন হয়। এই জরিপে জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে খতিয়ান ও নকশা তৈরি করা হয়েছিল। আজও অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকানা প্রমাণে CS খতিয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সেটেলমেন্ট সার্ভে (SA Survey)
১৯৫০ সালে প্রণীত ভূমি সংস্কার আইনের পর ১৯৫৬ সালে শুরু হয় SA Survey। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর সাধারণ কৃষকের কাছে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে এই জরিপ বিশেষ ভূমিকা রাখে। এখানে মালিকদের নতুন খতিয়ান প্রদান করা হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে এতে কিছু ভুল-ত্রুটি থেকে যায়।
রিভিশনাল সার্ভে (RS Survey)
CS ও SA জরিপের নানা সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ১৯৬৬ সালে শুরু হয় RS Survey। এই জরিপ এখনো ধাপে ধাপে চালু রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জমির সঠিক পরিমাণ, সীমানা ও মালিকানা হালনাগাদ করা হয়। ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো আইনি বিষয়ে RS খতিয়ান একটি বড় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আর্বান বা সিটি জরিপ (BS Survey)
গ্রামের মতো শহরের জমিতেও বিরোধ কম নয়। বিশেষ করে বাড়ির প্লট, ফ্ল্যাট বা ব্যবসায়িক জমি নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য Urban Survey চালু করা হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই জরিপকে অনেকেই BS Survey নামে চেনে। শহরের জমির হালনাগাদ খতিয়ান ও নকশা এই জরিপের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।
কেন ভূমি জরিপ এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভূমি সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। অথচ জমি সংক্রান্ত বিরোধে অনেক পরিবার বছরের পর বছর আদালতের দ্বারে ঘোরে। ভূমি জরিপ থাকলে—
- জমির সঠিক মালিকানা নির্ধারণ করা যায়
- জমি বণ্টন ও পরিমাপে ভুলভ্রান্তি কমে যায়
- আইনগত ঝামেলা থেকে বাঁচা যায়
- নিজের জমির সীমানা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়
প্রফেশনাল ভূমি জরিপ / আমিনশীপ / ডিজিটাল সার্ভেয়ার কোর্স
আজকাল দালালের পিছনে ঘুরে সময় ও টাকা খরচ না করেও আপনি চাইলে নিজের জমির হিসাব-নিকাশ নিজেই বুঝতে পারবেন। এজন্য রয়েছে একটি অসাধারণ ভিডিও কোর্স – প্রফেশনাল ভূমি জরিপ / আমিনশীপ / সার্ভেয়ার কোর্স।
👉 এই কোর্সে যা যা থাকছে:
- জমির দলিলপত্র ও খতিয়ান বুঝার নিয়ম
- জমির পরিমাণ নির্ণয় ও সীমানা ভাগ করার কৌশল
- নকশা চিনে জমি মাপার সূত্র
- দলিল যাচাই-বাছাই পদ্ধতি
- মুসলিম ও হিন্দু আইনে জমি বণ্টনের নিয়ম
- প্র্যাকটিক্যাল গাণিতিক সমস্যার সমাধান
কোর্সটি একেবারে বেসিক থেকে শুরু করে অ্যাডভান্স লেভেল পর্যন্ত সাজানো। মোট ২০টি রেকর্ডেড ভিডিও, সাথে ফ্রি PDF বই এবং লাইফটাইম অ্যাক্সেস।
মূল্য? মাত্র ১৯৯/- টাকা!
যেখানে দালালের কাছে গেলে কয়েকশ বা হাজার টাকা খরচ হতো, সেখানে এই কোর্স আপনাকে দেবে আজীবনের সমাধান।
কেন কোর্সটি করবেন?
✅ নিজের জমি নিজেই যাচাই করতে পারবেন
✅ দালাল নির্ভরতা কমবে
✅ আইনগত সমস্যায় না পড়ে নিরাপদ থাকবেন
✅ জমির হিসাব ও দলিল বোঝা সহজ হবে
আজই অর্ডার করুন এবং জমি-জমা সম্পর্কিত সব ঝামেলা থেকে মুক্তি পান।
ভূমি জরিপ শুধু একটি নথি নয়, এটি আপনার জমির পরিচয়পত্র। CS, SA, RS কিংবা Urban Survey – প্রতিটি জরিপের মাধ্যমে জমির মালিকানা নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতের দ্বন্দ্ব কমে যায়। জমির সঠিক হিসাব রাখতে হলে ভূমি জরিপ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। আর এ জন্যই প্রফেশনাল সার্ভেয়ার ভিডিও কোর্স হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।


