আজকের ব্যস্ত জীবনে যখন কেউ বাড়ি বা ভবন তৈরির পরিকল্পনা করে, তখন প্রথমেই মনে আসে নির্মাণ সামগ্রীর দাম। তার মধ্যে রডের দাম তো একটা বড় অংশ। বাংলাদেশে নির্মাণের কাজে রড ছাড়া চলে না। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশে আজকের রডের দাম কত, কেন দাম ওঠানামা করে এবং কীভাবে সঠিক রড কিনে খরচ বাঁচানো যায়। ২০২৬ অনুযায়ী, রডের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তবে গত মাসের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে। এই তথ্যগুলো জেনে আপনি কোনো ঠকাবুড়ি খাবেন না। চলুন, বিস্তারিত জানি।
বাংলাদেশে আজকের রডের দাম কত
বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্প দ্রুত বাড়ছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সব জায়গায় নতুন বাড়ি, অফিস এবং রাস্তা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে রডের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু দামও ওঠানামা করে। গত এক বছরে রডের দাম ১০-১৫ শতাংশ বেড়েছে, তবে সাম্প্রতিককালে কাঁচামালের দাম কমায় কিছুটা নেমেছে।
২০২৬, প্রতি টন রডের দাম ৮২,০০০ থেকে ৮৮,০০০ টাকার মধ্যে। এটা গত সপ্তাহের তুলনায় ২-৩ হাজার টাকা কম। কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে ইস্পাতের দাম নেমেছে এবং দেশীয় চাহিদা কিছুটা কম। যদি আপনি বড় প্রকল্পের জন্য রড কিনতে চান, তাহলে এখনই কেনা ভালো।
রডের দাম কেন বাড়ছে বা কমছে?
রড তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে স্ক্র্যাপ ইস্পাত এবং অন্যান্য উপাদান লাগে, যা বেশিরভাগ বিদেশ থেকে আসে। ডলারের দর বাড়লে আমদানি খরচ বাড়ে, ফলে রডের দামও ওঠে। এছাড়া, জ্বালানি তেলের দাম, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহন খরচও প্রভাব ফেলে। গত মাসে পেট্রোলিয়ামের দাম কমায় রডের উৎপাদন খরচ কমেছে।
আরেকটা কারণ হলো সরকারের নীতি। বাংলাদেশ স্টিল মিলসমূহের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, যাতে আমদানি কম হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে দাম স্থিতিশীল হবে। তবে, মৌসুমি চাহিদা – যেমন শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণ বেশি হয় – দামকে প্রভাবিত করে।
রডের গ্রেড এবং এর দামের পার্থক্য
রডের গ্রেড মানে এর শক্তি। বাজারে মূলত দুই ধরনের রড পাওয়া যায়: ৪০ গ্রেড এবং ৬০ গ্রেড। ৪০ গ্রেড ছোট বাড়ির জন্য ভালো, যার দাম কম। ৬০ গ্রেড বড় ভবনের জন্য, যা বেশি শক্তিশালী।
আজকের দাম অনুযায়ী:
- ৪০ গ্রেড MS রড: প্রতি টন ৮২,০০০ থেকে ৮৫,০০০ টাকা।
- ৬০ গ্রেড MS রড: প্রতি টন ৮৫,০০০ থেকে ৮৮,০০০ টাকা।
TMT রডও জনপ্রিয়, যার দাম ৮৬,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা। গ্রেড অনুসারে সাইজও ভিন্ন – ৮ মিমি থেকে ২৫ মিমি পর্যন্ত। বড় সাইজের দাম একটু বেশি।
বিভিন্ন কোম্পানির আজকের রডের দাম তালিকা
বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি রড তৈরি করে। প্রত্যেকের গুণমান এবং দাম আলাদা। আমরা বাজার যাচাই করে আজকের দামের তালিকা তৈরি করেছি। এটা ঢাকা এবং চট্টগ্রামের গড় দাম, যা অন্য জায়গায় ১-২ হাজার টাকা কম-বেশি হতে পারে।
| রড ব্র্যান্ড | বর্তমান দাম (প্রতি টন টাকায়) |
|---|---|
| BSRM | ৮৬,৫০০ |
| AKS | ৮৫,০০০ |
| KSRM | ৮৪,০০০ |
| CSRM | ৮২,৫০০ |
| BSI | ৮১,৫০০ |
| SSRM | ৮২,০০০ |
| Famous Steel | ৮২,০০০ |
| Suma Steel | ৮২,২০০ |
| Baizid Steel | ৮৪,০০০ |
| Angel Rate | ৮৪,৫০০ |
| HKG | ৮১,৫০০ |
| Mohammadi Steel | ৮৩,০০০ |
| GPH | ৮৫,১০০ |
| JSRM | ৮২,৫০০ |
| Anwar Ispat | ৮৪,০০০ |
| PHP Steels | ৮৪,০০০ |
| Hi Teck | ৮১,৫০০ |
| ZSRM | ৮২,৫০০ |
| RSM | ৮৩,০০০ |
| SS | ৮২,৫০০ |
| ASBRM | ৮১,৫০০ |
| RRM | ৮১,৫০০ |
| HRRM | ৮১,৫০০ |
| KING | ৮১,৫০০ |
| PRIME | ৮১,৫০০ |
এই তালিকা দেখে বোঝা যায়, BSRM এবং GPH-এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের দাম একটু বেশি, কিন্তু গুণমানও ভালো। সস্তা অপশন চাইলে BSI বা HKG দেখতে পারেন। সবসময় ISO সার্টিফাইড রড কিনুন, যাতে ভবন শক্ত থাকে।
কীভাবে সঠিক রড ব্র্যান্ড বাছাই করবেন?
রড কেনার সময় শুধু দাম দেখবেন না। গ্রেড, সাইজ এবং ব্র্যান্ডের রেপুটেশন দেখুন। উদাহরণস্বরূপ, BSRM-এর রডে বিশেষ অ্যান্টি-কস্টিং প্রপার্টি আছে, যা দীর্ঘস্থায়ী করে। KSRM-এর TMT রড ভূমিকম্প প্রতিরোধী। আপনার প্রকল্পের ধরন অনুসারে ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলুন।
১ কেজি রডের দাম কত?
অনেকে টনের পরিবর্তে কেজির দাম জানতে চায়, কারণ ছোট কাজে কেজি হিসেবে কেনা সুবিধাজনক। আজকের বাজারে ১ কেজি রডের দাম ৮২ থেকে ৮৮ টাকা। গত বছর এটা ছিল ৭৫-৮০ টাকা, কিন্তু এখন কাঁচামালের দাম কমায় স্থিতিশীল।
যদি ১০ মিটার লম্বা রড কিনেন, তাহলে ওজন অনুসারে দাম গণনা করুন। উদাহরণ: ১০ মিমি সাইজের ১ কেজি রড ৮৫ টাকা। বাল্ক কেনায় ছাড় পাওয়া যায়। স্থানীয় ডিলারের সাথে যোগাযোগ করুন।
রডের সাইজ অনুসারে কেজি দামের উদাহরণ
- ৮ মিমি: ৮২ টাকা/কেজি
- ১২ মিমি: ৮৪ টাকা/কেজি
- ১৬ মিমি: ৮৬ টাকা/কেজি
- ২০ মিমি: ৮৮ টাকা/কেজি
এই দামগুলো MS রডের। TMT-এর জন্য ২-৩ টাকা বেশি যোগ করুন।
বাংলাদেশের শীর্ষ রড কোম্পানির তালিকা
বাংলাদেশের ইস্পাত শিল্প এখন স্বনির্ভর। আমরা আর বিদেশ থেকে রড আমদানি করি না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কারখানা রয়েছে, যা দৈনিক লক্ষাধিক টন রড সরবরাহ করে। অনলাইনে অনেকে কোম্পানির নাম খোঁজে, কারণ ভালো ব্র্যান্ডের রড দিয়ে বড় প্রকল্প করা নিরাপদ।
এখানে কয়েকটা শীর্ষ কোম্পানির নাম:
- Bangladesh Steel Re-Rolling Mills Ltd. (BSRM): দেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানি, উচ্চমানের MS এবং TMT রড তৈরি করে।
- Abul Khair Steel (AKS): চট্টগ্রাম ভিত্তিক, সস্তা কিন্তু মজবুত রড।
- Kabir Steel Re-Rolling Mills (KSRM): ঢাকায় জনপ্রিয়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন।
- The Rani Re-Rolling Mills Ltd. (RRM): পুরনো কোম্পানি, স্থিতিশীল দাম।
- GPH Ispat (GPH): আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে।
- Sheema Steel Ltd. (SARM): নতুন কিন্তু দ্রুত বাড়ছে।
- Bandar Steel Industries Ltd (BSI): সস্তা অপশন।
- Anwar Ispat (AI): ঢাকা এলাকায় সহজলভ্য।
- PHP Re-Rolling Mills Ltd. (PHP): বড় প্রকল্পের জন্য আদর্শ।
এই কোম্পানিগুলোর রড BSTI অনুমোদিত, তাই নির্ভর করতে পারেন।
কোম্পানি নির্বাচনের টিপস
কোম্পানি বাছাই করার সময় ওয়ারেন্টি দেখুন। BSRM-এ ১ বছরের গ্যারান্টি দেয়। স্থানীয় ডিলার থেকে কিনলে ডেলিভারি ফ্রি হয়। অনলাইন অর্ডারও করা যায়, কিন্তু গুণমান চেক করুন।
রড কেনার সময় যে টিপস মেনে চলবেন
রড কেনা সহজ মনে হলেও সতর্কতা দরকার। প্রথমে, সার্টিফিকেট চেক করুন। দ্বিতীয়, সাইজ মাপুন – ভুল সাইজে খরচ বাড়বে। তৃতীয়, বাল্ক কেনায় ছাড় নিন। চতুর্থ, স্টোরেজ সঠিক রাখুন, যাতে মরিচা না পড়ে।
এছাড়া, পরিবেশবান্ধব রড বেছে নিন। অনেক কোম্পানি এখন গ্রিন স্টিল তৈরি করে। এতে আপনার প্রকল্প টেকসই হবে। যদি বাজেট কম, তাহলে ৪০ গ্রেড দিয়ে শুরু করুন।
নির্মাণে রডের সঠিক ব্যবহার
রড শুধু কেনাই নয়, ব্যবহারও জানুন। কলামে ১২ মিমি, স্ল্যাবে ১০ মিমি ব্যবহার করুন। ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন। ভুল ব্যবহারে ভবন দুর্বল হয়।
প্রশ্ন-উত্তর সেকশন
প্রতি টন ৮২,০০০ থেকে ৮৮,০০০ টাকা। বিস্তারিত তালিকা উপরে দেওয়া আছে।
আজকের দাম ৮৬,৫০০ টাকা প্রতি টন। এটা প্রিমিয়াম গুণমানের।
৮২ থেকে ৮৮ টাকা, সাইজ অনুসারে।
আন্তর্জাতিক বাজার নির্ভর করে। এখন স্থিতিশীল, কিন্তু শীতে চাহিদা কমলে নামতে পারে।
BSRM এবং KSRM শীর্ষে, কিন্তু আপনার বাজেট অনুসারে বেছে নিন।
স্থানীয় ডিলার বা অনলাইন মার্কেট থেকে। ঢাকায় চট্টগ্রাম রোডে অনেক দোকান আছে।
বাংলাদেশে রডের দামের ওঠানামা নির্মাণকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সঠিক তথ্য থাকলে সমস্যা কম। আজকের আপডেট দেখে বুঝলেন যে দাম কমছে, তাই এখনই পরিকল্পনা করুন। ভালো গুণমানের রড বেছে নিন, যাতে আপনার স্বপ্নের বাড়ি শক্তিশালী হয়। নিয়মিত বাজার চেক করুন এবং ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলুন। এতে খরচ কমবে এবং নিরাপত্তা বাড়বে। আপনার নির্মাণ যাত্রা সফল হোক!

