স্টারলিংক ইন্টারনেট এখন বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানির এই স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা দূরবর্তী এলাকায়ও দ্রুতগতির সংযোগ দিচ্ছে। আজকের এই লেখায় আমরা স্টারলিংক ইন্টারনেট খরচ প্রতি মাসে এর আপডেটেড খরচ, প্যাকেজের বিবরণ এবং কীভাবে সংযোগ নেবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু অনেক জায়গায় ফাইবার বা মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না। স্টারলিংক এখানে একটা বড় সমাধান হয়ে উঠেছে। এটি কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করে, যা ভূস্থির উপগ্রহের থেকে অনেক ভালো। বর্তমানে স্টারলিংকের ৭০০০-এর বেশি স্যাটেলাইট আকাশে ঘুরছে, যা পৃথিবী থেকে মাত্র ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এগুলো লো-আর্থ অরবিটে (LEO) থাকায় লেটেন্সি কম এবং স্পিড বেশি।
বাংলাদেশে স্টারলিংকের লঞ্চ হয়েছে মে ২০২৫-এ, এবং এর ফলে গ্রামীণ এলাকার লোকেরা এখন অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন এবং ব্যবসা চালাতে পারছেন। Starlink Internet Package-এর মাধ্যমে আনলিমিটেড ডেটা পাওয়া যায়, যা ঐতিহ্যবাহী ইন্টারনেটের চেয়ে সহজ। এই লেখায় আমরা স্টারলিংক ইন্টারনেট খরচ প্রতি মাসে আপডেট, কিটের দাম এবং ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলব। যদি আপনি দ্রুত ইন্টারনেট খুঁজছেন, তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই।
স্টারলিংক কী এবং কীভাবে কাজ করে
স্টারলিংক হলো স্পেসএক্সের একটা প্রজেক্ট, যা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়। ঐতিহ্যবাহী ইন্টারনেট সাবমেরিন ক্যাবল বা টাওয়ারের উপর নির্ভর করে, কিন্তু স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সাহায্য নেয়। এর স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে ইন্টারনেট সিগন্যাল পাঠায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংখ্যা ৭৫০০-এ পৌঁছেছে, যা কভারেজ আরও বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে পাহাড়, নদী এবং দূরবর্তী গ্রাম আছে, এটি আদর্শ।
স্টারলিংকের সুবিধা অনেক। প্রথমত, স্পিড ২৫ থেকে ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত, যা ভিডিও কল, গেমিং এবং স্ট্রিমিংয়ের জন্য পারফেক্ট। দ্বিতীয়ত, লো লেটেন্সি মানে দেরি কম, যা অনলাইন ক্লাস বা ওয়ার্ক ফ্রম হোমে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, আনলিমিটেড ডেটা, কোনো ফেয়ার ইউজ পলিসি নেই। বাংলাদেশে এটি বিটিআরসি-এর অনুমতি নিয়ে চালু হয়েছে, এবং স্থানীয় গেটওয়ের মাধ্যমে ডেটা রুটিং হয়। এতে ডেটা সিকিউরিটি নিশ্চিত।
Starlink Internet Package ২০২৫-এর আপডেট অনুসারে, বাংলাদেশে দুটো রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজ চালু আছে: স্টারলিংক রেসিডেন্সিয়াল এবং রেসিডেন্সিয়াল লাইট। এগুলো বাড়িতে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা। রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজে মাসিক খরচ ৬০০০ টাকা, যাতে হাইয়ার প্রায়রিটি পাওয়া যায় এবং পিক আওয়ারে স্পিড ভালো থাকে। অন্যদিকে, রেসিডেন্সিয়াল লাইট মাত্র ৪২০০ টাকা মাসিক, কিন্তু প্রায়রিটি কম হওয়ায় ব্যস্ত সময়ে স্পিড কিছুটা কমতে পারে। উভয় প্যাকেজেই আনলিমিটেড ডেটা এবং ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত স্পিড। এছাড়া, রোম প্যাকেজ আছে মোবাইল ইউজারদের জন্য, যা পরে চালু হতে পারে।
এই প্যাকেজগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে মিলিয়ে সেট করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামের একটা পরিবার যদি অনলাইন শপিং বা কৃষি তথ্যের জন্য ইন্টারনেট চায়, তাহলে লাইট প্যাকেজ যথেষ্ট। আর শহরের অফিস বা স্কুলের জন্য রেসিডেন্সিয়াল ভালো। ২০২৫-এর আপডেটে কোনো দাম বাড়ানো হয়নি, কিন্তু স্যাটেলাইট সংখ্যা বাড়ায় সার্ভিস আরও স্থিতিশীল হয়েছে।
স্টারলিংক ইন্টারনেট খরচ প্রতি মাসে (Starlink Internet Package 2025)
স্টারলিংক শুরু করতে প্রথমে একটা কিট কিনতে হয়, যার দাম ৪৭০০০ টাকা। এতে সব প্রয়োজনীয় জিনিস থাকে। প্রধান অংশ হলো ডিশ অ্যান্টেনা, যা স্যাটেলাইট সিগন্যাল ধরে। এর সাথে রাউটার, পাওয়ার সাপ্লাই, ৫০ ফুট ক্যাবল এবং মাউন্টিং স্ট্যান্ড। এই কিট স্ট্যান্ডার্ড কিট নামে পরিচিত, যা বাড়ির ছাদে বা খোলা জায়গায় লাগানো যায়।
যদি আপনি মোবাইল ব্যবহার করেন, তাহলে স্টারলিংক মিনি কিট আছে ২৬৫০০ টাকায়, যা ব্যাগে রেখে নেওয়া যায়। এতে স্পিড ১০০ এমবিপিএস পর্যন্ত। অতিরিক্ত অ্যাক্সেসরিজ যেমন ওয়াল মাউন্ট ৫৯০০ টাকা বা পাইপ অ্যাডাপ্টার ২৬০০ টাকা। শিপিং চার্জ ২৮০০ টাকা লাগে, তাই মোট খরচ ৪৯৮০০ টাকা হয়। এই কিটগুলো স্থানীয় দোকান যেমন স্টার টেক বা রায়ান্স থেকে কেনা যায়, অথবা অনলাইনে।
কিটের কোয়ালিটি দারুণ। এটি বৃষ্টি, তুষারপাত বা ঝড় সহ্য করতে পারে। ডিশটা অটোমেটিকভাবে স্যাটেলাইটের দিকে ঘুরে। ওয়াইফাই ৬ সাপোর্ট করে, যাতে অনেক ডিভাইস কানেক্ট করা যায়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি ভালো কাজ করে, বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায়।
স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার ধাপসমূহ
বাংলাদেশ থেকে স্টারলিংক অর্ডার করা খুব সহজ। প্রথমে starlink.com ওয়েবসাইটে যান। সেখানে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন বা লগইন করুন। তারপর “Order Now” ক্লিক করুন। আপনার ঠিকানা দিন, যাতে কভারেজ চেক হয়। বাংলাদেশের সব জায়গায় এখন সার্ভিস আছে।
প্যাকেজ সিলেক্ট করুন: রেসিডেন্সিয়াল বা লাইট। পেমেন্টের জন্য ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড বা বিকাশ ব্যবহার করুন। কিটের দাম ৪৭০০০ টাকা পে করুন, মাসিক ফি অটো ডেবিট হবে। অর্ডার কনফার্ম হলে ৩-৪ সপ্তাহে কিট পৌঁছে যাবে। ইনস্টলেশন অ্যাপ দিয়ে করুন: ডিশ লাগান, অ্যাপে স্ক্যান করুন এবং কানেক্ট হয়ে যাবে। যদি সমস্যা হয়, সাপোর্ট টিম কল করুন।
এই প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় গ্রামের লোকেরাও করতে পারেন। সরকার মাইক্রোক্রেডিটের মাধ্যমে লোনের ব্যবস্থা করছে, যাতে সবাই সংযোগ নিতে পারে।
স্টারলিংকের সুবিধা এবং অসুবিধা বাংলাদেশে
স্টারলিংকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কভারেজ। সুন্দরবনের হাট থেকে সিলেটের পাহাড় পর্যন্ত সব জায়গায় কাজ করে। স্পিড স্থিতিশীল, বিশেষ করে রাতের দিকে। এটি রিমোট ওয়ার্কিংয়ের জন্য আদর্শ, যেখানে ফাইবার নেই। গভর্নমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্যও ভালো, যেমন ডাক্তার বা শিক্ষক।
কিন্তু অসুবিধাও আছে। দাম অনেকের কাছে বেশি, বিশেষ করে মাসিক ৪২০০ টাকা। শহরে ফাইবার ১০০০ টাকায় পাওয়া যায়। ডিশের জন্য খোলা জায়গা লাগে, বাড়ির ভিতরে কাজ করে না। প্রথমে কিটের খরচ ফেরত পাওয়া যায় না। তবে, ২০২৫-এ স্পিড আপগ্রেড হয়েছে, যা এগুলো কমিয়েছে।
ভবিষ্যতে স্টারলিংক আরও প্যাকেজ চালু করতে পারে, যেমন বিজনেস প্ল্যান। এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে বুস্ট দেবে।
প্রশ্ন-উত্তর সেকশন
রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজে ৬০০০ টাকা এবং রেসিডেন্সিয়াল লাইটে ৪২০০ টাকা মাসিক। উভয়েই আনলিমিটেড ডেটা।
দুটো রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজ: স্ট্যান্ডার্ড এবং লাইট। স্পিড ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত, রোম অপশনও আসতে পারে।
৪৭০০০ টাকা। এতে ডিশ, রাউটার, ক্যাবল এবং স্ট্যান্ড। মিনি কিট ২৬৫০০ টাকা।
starlink.com-এ অর্ডার করুন, ঠিকানা দিন, পে করুন। কিট ৩-৪ সপ্তাহে পৌঁছাবে। অ্যাপ দিয়ে ইনস্টল করুন।
২৫-৩০০ এমবিপিএস ডাউনলোড, ৫-২৫ এমবিপিএস আপলোড। লোকেশনভেদে পরিবর্তন হয়।
হ্যাঁ, সারাদেশে কভারেজ। দূরবর্তী এলাকায় বিশেষভাবে ভালো।
স্টারলিংক ইন্টারনেট বাংলাদেশকে ডিজিটালভাবে সামনে নিয়ে যাচ্ছে। Starlink Internet Package ২০২৫-এর সাথে সাশ্রয়ী দামে দ্রুত সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যদি আপনার এলাকায় ইন্টারনেট সমস্যা হয়, তাহলে এটি চেষ্টা করুন। ভবিষ্যতে আরও আপডেট আসবে, যা সেবাকে আরও ভালো করবে। আজই অর্ডার করুন এবং অনলাইন জগতের সাথে যুক্ত হোন।


