সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা কত টাকা এই প্রশ্নটি এখন বাংলাদেশে বিদেশে যেতে আগ্রহী মানুষের সবচেয়ে বেশি খোঁজা বিষয়গুলোর একটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আধুনিক ও উন্নত দেশ সিঙ্গাপুরে কাজের সুযোগ, ভালো বেতন এবং নিরাপদ জীবনযাত্রার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী সেখানে যেতে চান। সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেক সময় মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা প্রতারণার শিকার হয়। তাই সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা খুবই জরুরি।
সিঙ্গাপুর একটি দ্বীপ রাষ্ট্র হলেও এর অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানে নির্মাণ, সার্ভিস, টেকনিক্যাল ও হসপিটালিটি সেক্টরে নিয়মিত শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হয়। বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে এবং বেসরকারিভাবে কাজের ভিসা নিয়ে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা পাওয়ার উপায় ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা পাওয়ার দুটি প্রধান উপায় রয়েছে সরকারি এবং বেসরকারি। সরকারিভাবে যেতে চাইলে বোয়েসেল (BOESL) এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হয়। সিঙ্গাপুর সরকার যখন শ্রমিক নিয়োগের সার্কুলার প্রকাশ করে, তখন এসব সরকারি প্ল্যাটফর্মে তা জানানো হয়। নিবন্ধিত প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেন।
এছাড়া “আমি প্রবাসী” অ্যাপের মাধ্যমে সরকারিভাবে বিভিন্ন দেশের জব সার্কুলার দেখা যায়, যেখানে সিঙ্গাপুরের কাজের তথ্যও প্রকাশ হয়। যারা বেসরকারিভাবে যেতে চান, তারা বিশ্বস্ত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভিসা এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। তবে ভিসা হাতে পাওয়ার আগে কোনো অবস্থাতেই সম্পূর্ণ টাকা দেওয়া উচিত নয়। ভিসা পাওয়ার পর অবশ্যই অনলাইন বা অফিসিয়াল পদ্ধতিতে ভিসা চেক করা প্রয়োজন।
সিঙ্গাপুর যেতে কী কী যোগ্যতা লাগে
সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং পাসপোর্টের মেয়াদ সাধারণত কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হয়। পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড জমা দিতে হয়।
এছাড়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং কাজের দক্ষতার সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া কাজের অফার লেটারও লাগতে পারে। এসব কাগজপত্র ঠিকভাবে প্রস্তুত থাকলে ভিসা প্রসেসিং সহজ হয়।
সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা কত টাকা ২০২৬
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসা নিয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার খরচ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। ভিসার ধরন, প্রসেসিং মাধ্যম, কাজের ক্যাটাগরি এবং চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী খরচ কম বা বেশি হতে পারে। বর্তমানে সাধারণভাবে সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা খরচ প্রায় ৬ লক্ষ টাকা থেকে ৮ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
সরকারিভাবে বোয়েসেলের মাধ্যমে যেতে পারলে খরচ তুলনামূলক কম হয়। অন্যদিকে বেসরকারি এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে গেলে খরচ বেশি পড়ে। তাই খরচের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সিঙ্গাপুরে কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৬
সিঙ্গাপুর একটি শিল্পোন্নত দেশ হওয়ায় এখানে বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, ক্লিনার, ফুড ডেলিভারি ম্যান, ড্রাইভার, মেকানিক, ইলেকট্রনিক টেকনিশিয়ান এবং প্লাম্বিং কাজে চাহিদা বেশি দেখা যায়। পাশাপাশি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সেক্টরে কিচেন হেলপার, ওয়েটার ও সার্ভিস স্টাফেরও প্রয়োজন হয়।
যাদের নির্দিষ্ট কোনো স্কিল বা অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা তুলনামূলক ভালো বেতন ও সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই ভিসার জন্য আবেদন করার আগে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন-উত্তর
সাধারণত সব কাগজ ঠিক থাকলে ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ভিসা প্রসেস সম্পন্ন হয়।
হ্যাঁ, সরকারিভাবে গেলে দালাল খরচ না থাকায় মোট ব্যয় কম হয়।
ভিসা চেক করে নিশ্চিত হওয়া এবং ফ্লাইট ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
সঠিক তথ্য ও পরিকল্পনা থাকলে সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা নেওয়া কঠিন নয়। ভিসার খরচ, যোগ্যতা ও কাজের ধরন সম্পর্কে আগে থেকেই জানা থাকলে ঝুঁকি কমে এবং নিরাপদভাবে বিদেশে কাজ করা সম্ভব হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক ভালোভাবে যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ ইতালি স্পন্সর ভিসা আবেদনের সময় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সহজ আবেদন গাইড


