বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক যেতে চান? জেনে নিন তুরস্ক ভিসার দাম, আবেদন প্রক্রিয়া, ওয়ার্ক পারমিট, টুরিস্ট ও স্টুডেন্ট ভিসার খরচসহ বিস্তারিত তথ্য এক জায়গায়।
তুরস্ক হলো এক অনন্য দেশ, যা পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থিত। দেশটির প্রায় পুরোটাই এশিয়ার আনাতোলিয়া অঞ্চলে, আর রাজধানী আঙ্কারা। তুরস্ক শুধু ঐতিহাসিক সৌন্দর্যের দেশ নয়, এটি এখন কাজ, পড়াশোনা এবং পর্যটনের দিক থেকেও বাংলাদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তাই অনেকেই জানতে চান — তুরস্ক ভিসার দাম কত এবং কীভাবে সহজে তুরস্ক ভিসা পাওয়া যায়।
তুরস্ক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে যেতে হলে আপনাকে সরকারি বা অনুমোদিত কোনো প্রাইভেট এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তুরস্কে যাওয়ার জন্য বর্তমানে বেশ কিছু ভিসা ক্যাটাগরি রয়েছে যেমন Tourist Visa, Student Visa, এবং Work Permit Visa। প্রতিটি ভিসার আবেদন ফি, সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন।
ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন অনলাইনে বা সরাসরি তুর্কি দূতাবাসে। অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে সরকারি ওয়েবসাইট visa.gov.bd এ গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হয়।
তুরস্ক ভিসার দাম কত
তুরস্ক ভিসার দাম নির্ভর করে আপনি কোন ভিসা ক্যাটাগরিতে আবেদন করছেন তার উপর। ভিসা ফি ছাড়াও এতে যুক্ত হয় সার্ভিস চার্জ, ডকুমেন্ট যাচাই ও প্রসেসিং ফি।
- Single Entry Visa ফি: ৫৮ মার্কিন ডলার
- Double Entry Visa ফি: ১১৬ মার্কিন ডলার
- Multiple Entry Visa ফি: ১৯৪ মার্কিন ডলার
বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ৬,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২২,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে (ডলার রেট অনুযায়ী)। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষে সব মিলিয়ে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে তুরস্কে যাওয়ার খরচ পড়তে পারে।
তুরস্ক যেতে মোট খরচ কত লাগে
তুরস্ক ভিসা প্রক্রিয়ায় খরচ নির্ভর করে আপনি কোন পথে যাচ্ছেন তার উপর।
দুইভাবে বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক যাওয়া যায়:
- সরকারি বা অনুমোদিত ভিসা প্রক্রিয়ায়:
এই প্রক্রিয়ায় মোট খরচ প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। এতে থাকে ফ্লাইট টিকিট, ভিসা ফি, সার্ভিস চার্জ ও ডকুমেন্ট খরচ। - দালাল বা এজেন্টের মাধ্যমে:
এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় বাড়তি চার্জ দিতে হয়। খরচ হতে পারে প্রায় ৭ থেকে ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তবে এই পথে ঝুঁকি বেশি এবং আইনগত সমস্যাও হতে পারে।
সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা।
তুরস্ক ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
যদি কাজের জন্য তুরস্ক যেতে চান, তাহলে প্রয়োজন হবে Work Permit Visa। এই ভিসা পাওয়ার জন্য সাধারণত তুরস্কে থাকা কোনো নিয়োগদাতার ইনভাইটেশন লেটার প্রয়োজন হয়। এরপর নিকটতম তুর্কি মিশনে আবেদন করতে হয়।
ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ফি:
- আবেদন ফি: ৫৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা
- অতিরিক্ত খরচসহ মোট ব্যয়: প্রায় ৪ থেকে ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
তবে দালাল বা ভুয়া এজেন্সির মাধ্যমে গেলে খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই সবসময় নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে আবেদন করা উচিত।
তুরস্ক টুরিস্ট ভিসার দাম
তুরস্ক ভ্রমণ করতে চাইলে Tourist Visa নিতে হয়। এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিসা ক্যাটাগরি।
টুরিস্ট ভিসার ফি ও খরচ:
- আবেদন ফি: ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা
- সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সহ মোট খরচ: প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা
- অবস্থানকাল: ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বৈধ
এই ভিসায় আপনি তুরস্কের জনপ্রিয় শহর যেমন ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা বা আন্তালিয়া ঘুরে দেখতে পারবেন।
তুরস্ক স্টুডেন্ট ভিসার দাম
উচ্চশিক্ষার জন্য তুরস্ক এখন বেশ জনপ্রিয়। সেখানে অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারেন।
স্টুডেন্ট ভিসার খরচ:
- প্রসেসিং ফি: ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা
- মোট খরচ: আনুমানিক ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা
- সময়কাল: ১ বছর থেকে একাধিক বছর পর্যন্ত (শিক্ষাক্রম অনুযায়ী)
তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার পাশাপাশি আংশিক সময়ের কাজ করার সুযোগও পাওয়া যায়, যা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা।
তুরস্কে কাজের বেতন কেমন
তুরস্কে কাজের বেতন পেশা ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। সাধারণ শ্রমিকদের মাসিক বেতন গড়ে ৩০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়। তবে দক্ষ পেশাজীবীদের বেতন মাসে ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সফটওয়্যার, কনস্ট্রাকশন, হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও সিকিউরিটি সেক্টরে তুলনামূলক বেশি বেতন পাওয়া যায়।
তুরস্কে কোন কাজের চাহিদা বেশি
বর্তমানে তুরস্কে নিচের কাজগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি:
- Software Development
- DevOps Engineer
- Cloud System Management
- Cyber Security Expert
- Data Analyst & Automation Specialist
- Construction Worker
- Hotel and Restaurant Staff
এই পেশাগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকরাও ক্রমে জায়গা করে নিচ্ছেন। তুরস্ক সরকারও দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা সুবিধা চালু করেছে।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
সরকারি মাধ্যমে গেলে প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা, আর দালালের মাধ্যমে গেলে ৭ থেকে ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।
সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের জন্য দেওয়া হয়।
কাজের চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী ১ বছর বা তার বেশি সময় থাকা যায়।
গড়ে ৩০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
আইটি, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে সুযোগ বেশি।
বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে যাওয়ার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ। সঠিক কাগজপত্র এবং অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে অল্প সময়েই ভিসা পাওয়া যায়। আপনি যদি পড়াশোনা, কাজ বা ভ্রমণের জন্য তুরস্কে যেতে চান, তাহলে আগে থেকেই ভিসার ক্যাটাগরি বুঝে নিন এবং বাজেট পরিকল্পনা করুন। তুরস্ক এখন বাংলাদেশের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও শিক্ষার গন্তব্য হয়ে উঠেছে।


