কানাডা ভিসার দাম কত? ২০২৫ সালে টুরিস্ট, স্টুডেন্ট এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ জানুন। এজেন্সি ফি সহ মোট ব্যয়, বয়সের শর্ত এবং টিপস পান। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সহজ পথ।
কানাডা ভিসার দাম কত? এই প্রশ্নটি আজকাল বাংলাদেশের অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কানাডা, উত্তর আমেরিকার এই সুন্দর দেশটি তার সুন্দর প্রকৃতি, ভালো জীবনযাত্রা এবং চাকরির সুযোগের জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কাজ, পড়াশোনা বা ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু ভিসা করতে কত খরচ হবে, সেই তথ্য না জেনে অনেকে পিছিয়ে যান। ২০২৫ সালে কানাডা ভিসার দাম ক্যাটাগরি অনুসারে পরিবর্তিত হয়েছে। সরকারি ফি থেকে শুরু করে এজেন্সির চার্জ, সব মিলিয়ে খরচ নির্ধারিত হয়। এই লেখায় আমরা বিস্তারিত জানাব কানাডা ভিসার দাম কত, কীভাবে আবেদন করবেন এবং কোন কোন ক্যাটাগরিতে যাওয়া যায়। যদি আপনি কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা স্টুডেন্ট ভিসার কথা ভাবছেন, তাহলে এখানে সব তথ্য পাবেন।
কানাডা যাওয়ার স্বপ্ন অনেকের, কিন্তু খরচের হিসাব না করলে সেই স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বর্তমানে কানাডা ভিসার দাম কত তা জানতে হলে প্রথমে ক্যাটাগরি বুঝতে হবে। সাধারণত সরকারি ফি কানাডিয়ান ডলারে (CAD) নেওয়া হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করলে বোঝা যায়। এক CAD এর মূল্য প্রায় ৮৮ টাকা। এছাড়া বায়োমেট্রিক্স ফি এবং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ যোগ হয়। সরকারি পথে আবেদন করলে খরচ কম, কিন্তু এজেন্সির মাধ্যমে গেলে ৪ লক্ষ থেকে ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। চলুন বিস্তারিত দেখি।
কানাডা ভিসা ক্যাটাগরি
কানাডা ভিসা বিভিন্ন ধরনের। প্রত্যেকটির উদ্দেশ্য আলাদা এবং খরচও ভিন্ন। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলে IRCC (ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা) ওয়েবসাইটে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে হয়। কানাডা ভিসার দাম কত তা জানার আগে ক্যাটাগরি বেছে নিন। এখানে প্রধান কয়েকটি উল্লেখ করছি।
কানাডা টুরিস্ট ভিসা
যদি আপনি কানাডার সুন্দর শহরগুলো ঘুরতে চান, তাহলে টুরিস্ট ভিসা বা ভিজিটর ভিসা আবেদন করুন। এটি সিঙ্গেল বা মাল্টিপল এন্ট্রির হতে পারে এবং ৬ মাস পর্যন্ত থাকা যায়। ২০২৫ সালে সরকারি ফি ১০০ CAD, যা প্রায় ৮,৮০০ টাকা। বায়োমেট্রিক্স ফি ৮৫ CAD (প্রায় ৭,৪৮০ টাকা) যোগ করলে মোট সরকারি খরচ ১৬,২৮০ টাকা। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এজেন্সির মাধ্যমে করলে অতিরিক্ত ২-৩ লক্ষ টাকা চার্জ নেয়। মোট খরচ ৩ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা হতে পারে। ডকুমেন্টস যেমন পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং ট্রাভেল প্ল্যান জমা দিন। সফলতার হার বাড়াতে শক্তিশালী ফিনান্সিয়াল প্রুফ দেখান।
কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হলো কাজের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় অপশন। এটি ওপেন বা এমপ্লয়ার স্পেসিফিক হতে পারে। ২০২৫ সালে ওয়ার্ক পারমিটের ফি ১৫৫ CAD (প্রায় ১৩,৬৪০ টাকা)। যদি LMIA (লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) লাগে, তাহলে অতিরিক্ত ১০০০ CAD (প্রায় ৮৮,০০০ টাকা) চার্জ হয়, যা এমপ্লয়ার দেয়। বায়োমেট্রিক্স যোগ করে মোট সরকারি খরচ ২০,১২০ টাকা। এজেন্সির সাহায্য নিলে কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার দাম ৬ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা হয়। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে জব অফার লেটার এবং কোয়ালিফিকেশন প্রুভ দরকার। এই ভিসায় গেলে মাসে ২০-৩০ লক্ষ টাকা আয়ের সম্ভাবনা আছে।
কানাডা জব ভিসা ২০২৫
কানাডা জব ভিসা ২০২৫ সালে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। সরকারি প্রোগ্রাম যেমন এক্সপ্রেস এন্ট্রির মাধ্যমে আবেদন করলে প্রসেসিং ফি ৯৫০ CAD (প্রায় ৮৩,৬০০ টাকা) এবং PR ফি ৫৭৫ CAD (প্রায় ৫০,৬০০ টাকা), মোট ১,৩৪,২০০ টাকা। কিন্তু এজেন্সির মাধ্যমে কানাডা জব ভিসা ২০২৫ করলে খরচ ৬ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। প্রতি বছর কানাডার কোম্পানিগুলো হাজারো শ্রমিক নেয়, বিশেষ করে IT, হেলথকেয়ার এবং কনস্ট্রাকশনে। আবেদনের জন্য IELTS স্কোর এবং ওয়ার্ক এক্সপিরিয়েন্স দেখান। সরকারি পথে গেলে খরচ কম, কিন্তু সময় বেশি লাগে।
কানাডা শ্রমিক ভিসা
কানাডা শ্রমিক ভিসা শ্রমিকদের জন্য আদর্শ। এতে কৃষি, কনস্ট্রাকশন বা ফ্যাক্টরি কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। ২০২৫ সালে ফি একই রকম, ১৫৫ CAD ওয়ার্ক পারমিটের জন্য। সরকারি আবেদনে মোট খরচ ২০,১২০ টাকা, কিন্তু এজেন্সি সহ ৪ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ টাকা। কানাডা শ্রমিক ভিসায় চাহিদা বেশি, বিশেষ করে টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামে। বাংলাদেশি শ্রমিকরা এতে সফল হচ্ছেন। আয় মাসে ১.৫-২ লক্ষ টাকা হতে পারে। ডকুমেন্টস যেমন মেডিকেল চেকআপ এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দিন।
কানাডা লেবার ভিসা এবং কৃষি ভিসা:
কানাডা লেবার ভিসা বা কৃষি ভিসা শ্রমিক ভিসার অংশ। কৃষি কাজের জন্য সিজনাল ওয়ার্কার প্রোগ্রাম আছে, যার ফি কম। ২০২৫ সালে এতে খরচ ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এজেন্সি সহ গেলে ৫ লক্ষ। এই ভিসায় ৮ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত কাজ করা যায়।
কানাডা স্টুডেন্ট ভিসা
কানাডা স্টুডেন্ট ভিসা উচ্চশিক্ষার জন্য সেরা। স্টাডি পারমিটের ফি ১৫০ CAD (প্রায় ১৩,২০০ টাকা)। বায়োমেট্রিক্স যোগ করে ২০,৬৮০ টাকা। এজেন্সির মাধ্যমে কানাডা স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে ৪ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা লাগে। স্কলারশিপ পেলে খরচ কমে। টিউশন ফি বছরে ২০-৩৫ লক্ষ টাকা, কিন্তু পার্ট-টাইম জব করে ম্যানেজ করা যায়। আবেদনে অফার লেটার এবং ফান্ড প্রুভ দরকার। ২০২৫ সালে ভিসা কোটা কমেছে, তাই তাড়াতাড়ি আবেদন করুন।
কানাডা বিজনেস ভিসা এবং অন্যান্য: উদ্যোক্তাদের জন্য
কানাডা বিজনেস ভিসা উদ্যোক্তাদের জন্য। ফি ১৫৫ CAD, মোট খরচ ৫-৭ লক্ষ টাকা। চিকিৎসা ভিসা মেডিকেল ট্রিটমেন্টের জন্য ১০০ CAD। ড্রাইভিং ভিসা বা মেকানিক্যাল ভিসা স্পেসিফিক জবের জন্য। সব ক্ষেত্রে কানাডা ভিসার দাম কত তা এজেন্সির উপর নির্ভর করে।
কানাডা যেতে কত বয়স লাগে
কানাডা যেতে কত বয়স লাগে? এটি ভিসা ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে। সাধারণত স্টুডেন্ট ভিসার জন্য সর্বনিম্ন ১৮ বছর, কিন্তু ১৬ বছরের নিচে গার্ডিয়ানের সাথে যাওয়া যায়। ওয়ার্ক পারমিট বা কানাডা জব ভিসা ২০২৫-এর জন্য ২১ বছর থেকে শুরু। সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ বছর পর্যন্ত আবেদন সম্ভব, কিন্তু এক্সপিরিয়েন্স দেখলে বেশি বয়সেও হয়। শ্রমিক ভিসায় ১৮-৩০ বছর আদর্শ। বয়সের প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট বা জন্ম সনদ দিন। ভুল বয়স বললে আবেদন বাতিল হয়।
কানাডা ভিসা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন
২০২৫ সালে সরকারি ফি ১০০-১৫৫ CAD, এজেন্সি সহ ৪-৮ লক্ষ টাকা।
১-৩ বছর, এক্সটেনশন সম্ভব।
হ্যাঁ, সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা।
কিছু ক্ষেত্রে, কিন্তু আলাদা আবেদন লাগে।
সর্বনিম্ন ১৮ বছর।
IT, হেলথকেয়ার এবং কনস্ট্রাকশন।
কানাডা ভিসার দাম কত তা জেনে এখন আপনার পরিকল্পনা শুরু করুন। সঠিক তথ্য এবং প্রস্তুতি দিয়ে আবেদন করলে সফলতা নিশ্চিত। সরকারি ওয়েবসাইট চেক করুন, ভালো এজেন্সি বেছে নিন এবং ডকুমেন্টস রেডি রাখুন। কানাডার সুন্দর জীবন আপনার অপেক্ষায়। শুভকামনা!


