বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান বিমান ভাড়া কত? ঢাকা থেকে ইসলামাবাদ, লাহোর বা করাচি ফ্লাইটের দাম, সেরা এয়ারলাইন্স এবং ভিসা প্রক্রিয়া জানুন। সস্তা টিকেট খুঁজে নিন এবং সহজে ভ্রমণ করুন।
বাংলাদেশের মানুষেরা এখন বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশে যাওয়া হয়ে উঠেছে সহজ। কেউ কাজের জন্য যায়, কেউ ভ্রমণের জন্য। পাকিস্তানে সুন্দর পর্বতমালা, ঐতিহাসিক স্থান এবং সুস্বাদু খাবারের অভাব নেই। কিন্তু যাওয়ার আগে সবাই জানতে চায়, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান বিমান ভাড়া কত? এই লেখায় আমরা ২০২৫ সালের আপডেট তথ্য দিয়ে সবকিছু বিস্তারিত বলব। চলুন শুরু করি।
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যাওয়ার সহজ উপায়
পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য প্রথমে ভিসার কথা মাথায় রাখতে হয়। ভালো খবর হলো, বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য পাকিস্তানের ই-ভিসা প্রক্রিয়া খুব সহজ হয়ে গেছে। আপনার যদি বৈধ পাসপোর্ট থাকে, তাহলে অনলাইনে আবেদন করে ৯০ দিনের টুরিস্ট ভিসা পেতে পারেন। এটি ফ্রি, মানে কোনো ফি লাগবে না। শুধুমাত্র টুরিজম বা বিজনেসের জন্য এই ভিসা ব্যবহার করা যায়, কাজের জন্য নয়।
পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া
পাসপোর্ট না থাকলে প্রথমে তা বানাতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন জেলা পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ফর্ম ফিলআপ করুন। দরকারি কাগজপত্র: জন্ম সনদ, ছবি এবং ফি। সাধারণত ১৫-২০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। খরচ মাত্র ৩-৪ হাজার টাকা।
ই-ভিসা আবেদনের ধাপসমূহ
পাকিস্তানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। দরকার: পাসপোর্টের কপি, ছবি এবং ট্রাভেল প্ল্যান। আবেদনের পর ৭-১০ দিনের মধ্যে ভিসা ইমেইলে চলে আসবে। ২০২৫ সালে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়েছে, কারণ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে।
যদি ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট থাকে, তাহলে ভিসার দরকার নেই। কিন্তু সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য ই-ভিসাই সবচেয়ে ভালো অপশন। এখন চলুন বিমান ভাড়ার কথায় আসি।
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান বিমান ভাড়া কত
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যাওয়ার বিমান ভাড়া নির্ভর করে এয়ারলাইন্স, তারিখ এবং রুটের উপর। ২০২৫ সালে one-way টিকেটের দাম শুরু হয় ৫২,০০০ টাকা থেকে। রাউন্ড-ট্রিপ হলে ১ লক্ষ থেকে ১.২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। ঢাকা থেকে ইসলামাবাদের জন্য সাধারণত ৫০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা বাজেট রাখুন।
ঢাকা থেকে ইসলামাবাদ বিমান টিকেটের দাম
ইসলামাবাদ পাকিস্তানের রাজধানী, তাই এখানে যাওয়া সবচেয়ে জনপ্রিয়। ২০২৫-এ one-way ফ্লাইট ৪৮,০০০ টাকা থেকে শুরু। রাউন্ড-ট্রিপ ৮৯,০০০ টাকা। সস্তা টিকেট পেতে অক্টোবর-নভেম্বরে বুক করুন, কারণ তখন অফ-সিজন।
দামের উপর প্রভাব ফেলে এমন ফ্যাক্টর
- সিজন: গ্রীষ্মকালে দাম বাড়ে, শীতকালে কম।
- বুকিংয়ের সময়: আগে বুক করলে ২০-৩০% ছাড় পাবেন।
- এয়ারলাইন্স: লো-কস্ট যেমন Air Arabia-তে সস্তা।
ঢাকা থেকে লাহোর বিমান ভাড়া
লাহোর পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক হব। এখানে যাওয়ার one-way ৫৫,০০০ টাকা। রাউন্ড-ট্রিপ ৯৫,০০০ টাকা। ঐতিহাসিক স্থান দেখতে চাইলে এই রুট চয়ন করুন।
ঢাকা থেকে করাচি বিমান ভাড়া
করাচি ব্যবসায়িক শহর। ভাড়া one-way ৫০,০০০ টাকা থেকে। এখান থেকে অন্য শহরে ট্রান্সফার সহজ।
২০২৫-এ সরাসরি ফ্লাইট শুরু হতে পারে, যা দাম আরও কমাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত স্টপওভার সহ রুট নিন।
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের দূরত্ব এবং ফ্লাইট সময়
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের বায়ু দূরত্ব ২,২০৮ কিলোমিটার। সরাসরি ফ্লাইট হলে ৩-৪ ঘণ্টা লাগবে। কিন্তু বর্তমানে স্টপওভার সহ ৬-১০ ঘণ্টা সময় নেয়। ঢাকা থেকে ইসলামাবাদ যেতে সাধারণত ৭ ঘণ্টা।
ফ্লাইটের সময়সূচি
প্রতিদিন কয়েকটা ফ্লাইট আছে। সকাল ৮টা বা রাত ১২টায় উড়ে। স্টপওভার সাধারণত দোহা বা আবুধাবিতে। ২০২৫-এ ডিরেক্ট ফ্লাইট চালু হলে সময় কমবে।
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স এবং রুট
সরাসরি ফ্লাইট না থাকলেও অনেক এয়ারলাইন্স সার্ভিস দিচ্ছে। এখানে কয়েকটা নাম:
কাতার এয়ারওয়েজ
দোহা স্টপওভার সহ। দাম ৬০,০০০ টাকা। সার্ভিস ভালো, খাবার সুস্বাদু।
সুবিধাসমূহ
- ফ্রি মিল
- ওয়াইফাই
- লাগেজ ৩০ কেজি
এয়ার আরাবিয়া
লো-কস্ট অপশন। one-way ৪৫,০০০ টাকা। শারজাহ স্টপ।
ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স
ভারত স্টপ সহ। সস্তা এবং নির্ভরযোগ্য।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজ
আবুধাবি রুট। প্রিমিয়াম সার্ভিস।
শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স
কলম্বো স্টপ। দাম মাঝারি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
দেশী এয়ারলাইন। মুসকাত স্টপ সহ।
এমিরেটস এয়ারলাইন্স
দুবাই স্টপ। লাক্সারি অভিজ্ঞতা।
২০২৫-এ Fly Jinnah এবং AirSial ডিরেক্ট ফ্লাইট চালু করবে, যা খুব সুসংবাদ।
পাকিস্তান ভ্রমণের সেরা সময়
পাকিস্তানে যাওয়ার সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। তখন আবহাওয়া ঠান্ডা, ২৫ ডিগ্রির নিচে। গ্রীষ্মে গরম সহ্য করা কঠিন। পর্বত অঞ্চলে এপ্রিল থেকে অক্টোবর ভালো। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার জন্য শীতকাল আদর্শ, কারণ ফ্লাইট দাম কম।
শীতকালীন ভ্রমণের সুবিধা
- কম ভিড়
- সস্তা হোটেল
- উত্তরাঞ্চলে তুষারপাত দেখা যায়
গ্রীষ্মকালীন টিপস
যদি যান, তাহলে দক্ষিণাঞ্চল চয়ন করুন। সানডস প্রদেশে সমুদ্র সৈকত উপভোগ করুন।
পাকিস্তানের আকর্ষণীয় স্থান
পাকিস্তান শুধু দেশ নয়, একটা জীবন্ত ইতিহাসের পাতা। ইসলামাবাদের ফজল-ই-ইলাহি মসজিদ দেখুন, যা বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ। লাহোরের বাদশাহি মসজিদ এবং ফোর্ট অবস্থানে ঐতিহ্যের ছোঁয়া পাবেন। করাচির ক্লক টাওয়ার এবং সৈকতগুলো মজার।
উত্তরাঞ্চলের পর্বতমালা
হুনজা ভ্যালি যান, যেখানে আপেলের বাগান এবং হিমালয়ের দৃশ্য অপূর্ব। নানগা পার্বত চড়াই করুন, যদি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ।
হুনজার সৌন্দর্য
- আট-বাদ শাহী রোড
- লেক অ্যাট্টাবাদ
- লোকাল খাবার যেমন চাপলি কাবাব
দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রতীর
করাচির হাওলার সৈকত বা গোয়াদর বীচ। এখানে সানসেট দেখে মন ভরে যাবে।
ঐতিহাসিক স্থান
মোহেনজো-দারো, প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ। ট্যাক্সিলা মিউজিয়ামে বৌদ্ধ ইতিহাস জানুন। বাংলাদেশী হিসেবে এখানে মুসলিম ঐতিহ্যের সাথে যোগাযোগ অনুভব করবেন।
পাকিস্তানে খাবারও অসাধারণ। বিরিয়ানি, নিরমিশ এবং মঙ্গো লসসি চেখে দেখুন। স্থানীয় বাজারে শপিং করুন, যেমন লাহোরের অনারকলি বাজার।
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণের সম্পূর্ণ বাজেট গাইড
ভ্রমণের আগে বাজেট ঠিক করা জরুরি। বিমান ভাড়া ছাড়া অন্য খরচ:
হোটেল এবং থাকার খরচ
ইসলামাবাদে একটা ভালো হোটেল রাতে ৩,০০০-৫,০০০ টাকা। লাহোরে সস্তা অপশন আছে ২,০০০ টাকা। ৭ দিনের ট্রিপে ২৫,০০০ টাকা রাখুন।
বাজেট হোটেল টিপস
- Airbnb ব্যবহার করুন
- লোকাল গেস্টহাউস চয়ন করুন
খাবারের খরচ
দিনে ১,০০০-১,৫০০ টাকা। রাস্তার খাবার সস্তা, রেস্তোরাঁয় বেশি। মোট ১০,০০০ টাকা।
পরিবহনের খরচ
পাকিস্তানে ট্রেন এবং বাস সস্তা। ইসলামাবাদ থেকে লাহোর ট্রেনে ১,০০০ টাকা। ট্যাক্সি ৫০০ টাকা প্রতি ঘণ্টা। মোট ১৫,০০০ টাকা।
অন্যান্য খরচ
শপিং ১০,০০০ টাকা, ট্যুর গাইড ৫,০০০ টাকা। ভিসা ফ্রি, কিন্তু ইন্স্যুরেন্স ২,০০০ টাকা।
সম্পূর্ণ ৭ দিনের ট্রিপে মোট ১.৫ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা লাগবে, বিমানসহ। সস্তা করতে গ্রুপে যান।
পাকিস্তান ভ্রমণের নিরাপত্তা টিপস
পাকিস্তান নিরাপদ, কিন্তু সতর্ক থাকুন। শহরের বাইরে যাওয়ার আগে লোকাল গাইড নিন। মহিলারা স্কার্ফ পরুন। রাতে একা ঘুরবেন না। কোভিডের পর নিয়ম মেনে চলুন।
হেলথ এবং ইন্স্যুরেন্স
ভ্যাকসিন নিন, বিশেষ করে হেপাটাইটিস। ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কিনুন। পানি বোতলের ব্যবহার করুন।
মোবাইল এবং ইন্টারনেট
সিম কার্ড কিনুন, জিও বা জাজের। ইন্টারনেট স্পিড ভালো।
টিকেট বুকিংয়ের সেরা অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট
টিকেট কাটতে Kayak, Skyscanner বা Wego ব্যবহার করুন। এগুলোতে প্রাইস কম্প্যারিজন আছে। বিমান বাংলাদেশের অফিসে গিয়েও বুক করতে পারেন। আগে বুক করলে ছাড় পাবেন।
অ্যাপের সুবিধা
- রিয়েল-টাইম প্রাইস
- অ্যালার্ট সিস্টেম
- ইজি ক্যানসেলেশন
প্রশ্ন-উত্তর সেকশন
২০২৫-এর শেষে চালু হবে। এখন স্টপওভার সহ যান।
One-way ৫০,০০০-৮০,০০০ টাকা, রাউন্ড-ট্রিপ ৯০,০০০ টাকা।
ই-ভিসা ৭-১০ দিনে পাওয়া যায়, ফ্রি।
৭-১০ দিন, যাতে সব জায়গা ঘুরে আসা যায়।
অফ-সিজনে বুক করুন, অ্যাপে অ্যালার্ট সেট করুন।
সুস্বাদু, বিশেষ করে কাবাব এবং বিরিয়ানি। হালাল সব।
২,২০৮ কিলোমিটার।
কাতার এয়ারওয়েজ সার্ভিসের জন্য, এয়ার আরাবিয়া সস্তার জন্য।
এয়ারপোর্টে সিম কিনুন, ৫০০ টাকায় ১০ জিবি ডেটা।
হালকা কাপড়, ওষুধ এবং অ্যাডাপ্টার।
বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যাওয়া এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তব। ২০২৫-এ বিমান ভাড়া কমছে, ভিসা সহজ হচ্ছে। সুন্দর স্থান, সুস্বাদু খাবার এবং উষ্ণ স্বাগতম অপেক্ষা করছে। পরিকল্পনা করে যান, নিরাপদ থাকুন। ভ্রমণ আপনার জীবনকে সমৃদ্ধ করবে। আরও জানতে কমেন্ট করুন।


