মরিশাস ভিসার দাম কত ২০২৫ সালে? বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট, ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রিমিয়াম ভিসার খরচ বিস্তারিত জানুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বেতনের হার এবং সহজ আবেদন টিপস পান। মরিশাস যাত্রার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিন।
মরিশাস ভিসার দাম কত? এই প্রশ্নটি অনেক বাংলাদেশী নাগরিকের মনে ঘুরপাক খায়, বিশেষ করে যারা এই সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতে বা কাজ করতে চান। ২০২৫ সালে মরিশাস ভিসার দাম কত তা জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আপনার যাত্রার পরিকল্পনা নির্ধারণ করে। মরিশাস ভারত মহাসাগরের একটি ছোট দ্বীপ, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অর্থনৈতিক সুযোগের জন্য বিখ্যাত। এখানে পর্যটন, আখ চাষ এবং আইটি খাতে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মরিশাস ভিসা পাওয়া সহজ, কিন্তু খরচ নির্ভর করে ভিসার ধরনের উপর। সাধারণত, অফিসিয়াল ফি খুব কম বা ফ্রি, তবে এজেন্সি ফি এবং ট্রাভেল খরচ যোগ হয়। এই আর্টিকেলে আমরা মরিশাস ভিসার দাম কত বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মরিশাস ভিসার দাম কত জানলে আপনার বাজেট সেট করা সহজ হবে।
মরিশাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মরিশাস একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, যা আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। এর আয়তন মাত্র ২০৪০ বর্গকিলোমিটার, যা ঢাকা শহরের থেকে অনেক ছোট। রাজধানী পোর্ট লুইস, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ১৩ লক্ষ। এই দেশটি পর্যটন এবং আখ উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। সাদা বালুর সমুদ্রতীর, নীল জল এবং সবুজ পাহাড় এখানকার আকর্ষণ। বাংলাদেশী প্রবাসীরা এখানে কাজ করে এসেছেন, বিশেষ করে কনস্ট্রাকশন এবং হসপিটালিটি খাতে। মরিশাস ভিসার দাম কত জানলে এই সুযোগগুলো গ্রহণ করা সহজ। দেশটির অর্থনীতি শক্তিশালী, এবং ২০২৫ সালে পর্যটন খাত আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এখানে বিদেশী শ্রমিকদের জন্য ওপেন পলিসি রয়েছে, যা বাংলাদেশীদের জন্য ভালো খবর। মরিশাস যাওয়ার জন্য ভিসা প্রয়োজনীয়, কিন্তু প্রক্রিয়া সহজ যদি সঠিক তথ্য থাকে।
কাদের মরিশাস ভিসা লাগে?
বাংলাদেশী নাগরিকদের মরিশাস যেতে অবশ্যই ভিসা লাগে। মরিশাস সরকার ১১৫টি দেশের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য ভিসা ফ্রি স্টে দেয়, কিন্তু বাংলাদেশ এই তালিকায় নেই। তাই আপনাকে আগে থেকে আবেদন করতে হবে। যদি আপনি পর্যটন, ব্যবসা বা কাজের জন্য যান, তাহলে ভিসা অবশ্যক। শুধু বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া যেতে পারেন, কিন্তু বাংলাদেশীদের জন্য না। মরিশাস ভিসার দাম কত জানা থাকলে আপনি আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবেন। ৩ মাসের বেশি থাকতে চাইলে দীর্ঘমেয়াদী ভিসা লাগবে। এই নিয়মগুলো মেনে চললে আবেদন সফল হবে। বাংলাদেশ থেকে মরিশাস ভিসা আবেদন করতে ভারতের মরিশাস দূতাবাসে যেতে হয়, কারণ ঢাকায় কোনো দূতাবাস নেই।
ভিসা ফ্রি দেশের তালিকা
কিছু দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া যেতে পারেন, যেমন অ্যান্ডোরা, কিরিবাতি, দক্ষিণ কোরিয়া, মালদ্বীপ। কিন্তু বাংলাদেশ, ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য ভিসা বাধ্যতামূলক। এই তথ্য জেনে আপনি মরিশাস ভিসার দাম কত হিসাব করতে পারবেন।
মরিশাস ভিসার ধরনসমূহ
মরিশাসে বিভিন্ন ধরনের ভিসা পাওয়া যায়, যা আপনার উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। মূলত তিনটি: টুরিস্ট, ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রিমিয়াম। প্রত্যেকটির মরিসাস ভিসার দাম কত আলাদা। ২০২৫ সালে এই ভিসাগুলোর নিয়ম একই রকম থাকবে।
টুরিস্ট ভিসা
টুরিস্ট ভিসা দিয়ে আপনি ৬০ দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত মরিশাসে থাকতে পারবেন। এটি পর্যটন বা পরিবার দেখার জন্য। অফিসিয়াল ফি শূন্য, অর্থাৎ ফ্রি। তবে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলে এজেন্সি ফি ১০-২০ হাজার টাকা লাগতে পারে। মরিশাস ভিসার দাম কত এখানে কম, কারণ শুধু ডকুমেন্টস চেক হয়। প্রয়োজনীয় কাগজ: পাসপোর্ট, হোটেল বুকিং, ফ্লাইট টিকিট, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট। আবেদন অনলাইনে করা যায়, প্রসেসিং ৭-১০ দিন। এই ভিসা দিয়ে আপনি সমুদ্রতীরে রিল্যাক্স করতে পারবেন।
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দিয়ে আপনি ১-৩ বছর কাজ করতে পারবেন। এটি এমপ্লয়ার স্পনসর করে। অফিসিয়াল ফি Rs ৭০০ প্রসেসিং + অ্যানুয়াল Rs ১০০০-৫০০০০ (খাতভেদে)। বাংলাদেশ থেকে এজেন্সি ফি ৫০-৬০ হাজার টাকা, প্লাস বিমান ১-১.৫ লক্ষ। মোট মরিশাস ভিসার দাম কত হলে ২-৩ লক্ষ টাকা। গার্মেন্টস বা কনস্ট্রাকশনের জন্য এটি জনপ্রিয়। আবেদন করতে এমপ্লয়মেন্ট কনট্রাক্ট লাগবে। ২০২৫ সালে এই ভিসার চাহিদা বাড়বে।
প্রিমিয়াম ভিসা
প্রিমিয়াম ভিসা দিয়ে ৬ মাস থেকে ১ বছর থাকা যায়, রিনিউ করা যায়। এটি ফ্রিল্যান্সার বা রিটায়ারদের জন্য। মরিশাস ভিসার দাম কত এখানে? সম্পূর্ণ ফ্রি! কোনো প্রসেসিং ফি নেই। প্রমাণ করতে হবে মাসে ১৫০০ ডলার আয়ের ক্ষমতা। বাংলাদেশ থেকে অনলাইন আবেদন, ৪৮ ঘণ্টায় আসে। এটি কোভিড-সেফ ডেস্টিনেশনের জন্য তৈরি।
মরিশাস ভিসার দাম কত
২০২৫ সালে মরিশাস ভিসার দাম কত? অফিসিয়াল ফি সব ধরনের জন্য কম বা ফ্রি। টুরিস্ট এবং প্রিমিয়াম ফ্রি। ওয়ার্ক পারমিটের জন্য Rs ৭০০ + অ্যানুয়াল ফি Rs ১০০০ (ম্যানুফ্যাকচারিং) থেকে Rs ৫০০০০ (গেমিং)। বাংলাদেশ থেকে মোট খরচ: টুরিস্ট ২০-৩০ হাজার (এজেন্সি), ওয়ার্ক ২-৩ লক্ষ (ফ্লাইট সহ), প্রিমিয়াম ফ্রি। মরিশাস ভিসার দাম কত হিসাব করতে এই ফ্যাক্টরগুলো বিবেচনা করুন: এজেন্সি চার্জ, ট্রাভেল, ইন্সুরেন্স। ভারতের দূতাবাসে আবেদন করলে খরচ কম। ২০২৫ সালে কোনো পরিবর্তন নেই, তবে ইনফ্লেশনের কারণে এজেন্সি ফি বাড়তে পারে। সঠিক হিসাবের জন্য অফিসিয়াল সাইট চেক করুন। এই খরচ জেনে আপনি সেভিংস প্ল্যান করতে পারবেন।
গার্মেন্টস ভিসার দাম
গার্মেন্টস খাতে ওয়ার্ক পারমিটের ফি Rs ১০০০/বছর। বাংলাদেশ থেকে মোট ১.৫-২ লক্ষ টাকা। ভারতের এজেন্সি থেকে ২০-২৫ হাজারে প্রসেস। মরিশাস ভিসার দাম কত এখানে কম, কারণ চাহিদা বেশি।
কনস্ট্রাকশন ভিসার খরচ
কনস্ট্রাকশনের জন্য একই ফি। মোট খরচ ২ লক্ষের মধ্যে। ২০২৫ সালে এই খাতে ৪৮,০০০ বিদেশী শ্রমিকের চাহিদা।
মরিশাসে জনপ্রিয় কাজের সুযোগ
মরিশাসে বাংলাদেশীদের জন্য বিভিন্ন কাজের সুযোগ রয়েছে। আনস্কিল্ড থেকে স্কিল্ড সবই। মরিশাস ভিসার দাম কত জেনে কাজ খুঁজুন। জনপ্রিয় কাজ: ফুড প্যাকেজিং, ড্রাইভিং, ক্লিনিং, কনস্ট্রাকশন, রেস্টুরেন্ট, সেলস, ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার। টেক খাতে AI, ক্লাউড কম্পিউটিং-এ চাহিদা। হসপিটালিটি এবং ফাইন্যান্সেও সুযোগ। বাংলাদেশী শ্রমিকরা কনস্ট্রাকশন এবং হাউসকিপিং-এ সফল। ২০২৫ সালে ৪৮,০০০ বিদেশী ওয়ার্কার রিক্রুট হবে। এই কাজগুলোর জন্য ওয়ার্ক পারমিট লাগবে।
কনস্ট্রাকশন কাজের বেতন
কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কারের বেতন মাসে Rs ২০,০০০-৩০,০০০ (প্রায় ৪৫-৬৫ হাজার টাকা)। অভিজ্ঞতা হলে বেশি। মরিশাস ভিসার দাম কত ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ড্রাইভিং কাজের আয়
ড্রাইভারদের বেতন Rs ১৫,০০০-২৫,০০০ (৩৫-৫৫ হাজার টাকা)। অতিরিক্ত টিপস পাওয়া যায়।
মরিশাসে সর্বনিম্ন বেতন কত?
২০২৫ সালে মরিশাসের সর্বনিম্ন বেতন Rs ১৭,১১০/মাস (প্রায় ৩৮,০০০ টাকা)। এটি জেনারেল ওয়ার্কারদের জন্য। ডিপ্লোমা হলে Rs ২৩,০০০, ডিগ্রি হলে Rs ২৫,০০০। এই বেতন দিয়ে ভালো জীবনযাপন সম্ভব। মরিশাস ভিসার দাম কত খরচ করে এখানে আসলে লাভবান হবেন। সেক্টরভেদে বেতন ভিন্ন, যেমন আইটি-তে বেশি।
আবেদন করতে প্রথমে পাসপোর্ট রিনিউ করুন। অনলাইন ফর্ম ফিল আপ করুন (passport.govmu.org)। ডকুমেন্টস: পাসপোর্ট কপি, ফটো, আয়ের প্রমাণ, ইনভিটেশন লেটার। ভারতের দিল্লি দূতাবাসে সাবমিট। প্রসেসিং ১-৪ সপ্তাহ। মরিশাস ভিসার দাম কত ফি দিয়ে ট্র্যাক করুন। টিপস: সব ডকুমেন্টস আপডেট রাখুন, ভুল এড়ান।
মরিশাস ভিসা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন
অফিসিয়াল ফ্রি, এজেন্সি ফি ১০-২০ হাজার টাকা।
২-৬ সপ্তাহ, এমপ্লয়ার স্পনসর করে।
হ্যাঁ, সম্পূর্ণ ফ্রি, ১ বছরের জন্য।
কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভিং, ক্লিনিং।
Bdt ১৭,১১০/মাস।
ডকুমেন্টস চেক করে আবার আবেদন করুন।
মরিশাস ভিসার দাম কত জেনে এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত। ২০২৫ সালে এই সুযোগগুলো গ্রহণ করে আপনার জীবন বদলে দিন। সঠিক প্রস্তুতি নিন, এবং সফলতা আসবে। মরিশাসের সৌন্দর্য এবং সুযোগ অপেক্ষা করছে। ভালো যাত্রা!


