বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পুরো খরচ জানুন ২০২৬ সালে। টুরিস্ট, কাজের এবং স্টুডেন্ট ভিসার ফি, প্রক্রিয়া এবং টিপস সহ সহজ গাইড। দালালের ফাঁদ এড়িয়ে সাশ্রয়ীভাবে যান।
মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আকর্ষণীয় দেশ, যেখানে সুন্দর সমুদ্র সৈকত, আধুনিক শহর এবং প্রচুর চাকরির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর এখানে ভ্রমণ, পড়াশোনা বা কাজের জন্য যায়। কিন্তু সবার প্রথম প্রশ্নই হয়, মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে? ২০২৬ সালে এই খরচ ভিসার ধরন, যাত্রার উদ্দেশ্য এবং এজেন্সির উপর নির্ভর করে। সরকারি পথে গেলে খরচ কম হয়, কিন্তু দালালের হাতে পড়লে লাখ লাখ টাকা নষ্ট হতে পারে। এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে সব খরচের হিসাব দেব, যাতে আপনি সঠিক পরিকল্পনা করতে পারেন। মনে রাখবেন, সর্বদা অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যবহার করুন এবং প্রতারকদের থেকে সাবধান থাকুন।
মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে
মালয়েশিয়া যাওয়ার মোট খরচ নির্ধারণ করতে হলে ভিসা, টিকিট, মেডিকেল চেকআপ এবং অন্যান্য ফি বিবেচনা করতে হয়। ২০২৬ সালে সাধারণত ২ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ টাকার মধ্যে খরচ হয়, যা উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, টুরিস্ট ভ্রমণের জন্য খরচ কম, কিন্তু কাজের জন্য বেশি।
সরকারি ভাবে আবেদন করলে খরচ অনেক কমে। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গেলে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ মাত্র ৭৮,৯৯০ টাকা হতে পারে। কিন্তু এজেন্সি ব্যবহার করলে এটি ৪ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। টিকিটের খরচও গুরুত্বপূর্ণ – ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের একমুখী টিকিট ৬০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা। মেডিকেল চেকআপের জন্য ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা লাগে। এছাড়া, পাসপোর্ট রিনিউ বা নতুন করার ফি ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা।
যদি আপনি পরিবার নিয়ে যান, তাহলে খরচ আরও বাড়বে। কিন্তু সাশ্রয়ী উপায়ে যাওয়ার জন্য অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করুন এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করুন। এতে দালালের ফাঁদ এড়ানো যায় এবং খরচ ৩০-৪০% কম হয়। ২০২৫ সালে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ এমওই অনুযায়ী রিক্রুটমেন্ট খরচ সর্বোচ্চ ৬৭৫ ডলার (প্রায় ৮০,০০০ টাকা) রাখা হয়েছে, যা অতিক্রম করলে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।
মালয়েশিয়ার ভিসার দাম কত
মালয়েশিয়ার ভিসার দাম ভিসার ধরন এবং আবেদনের পথের উপর নির্ভর করে। অফিসিয়াল ফি খুব কম, কিন্তু প্রসেসিং এবং অন্যান্য চার্জ যোগ হলে মোট বাড়ে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশীদের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার ফি মাত্র আরএম ২০ (প্রায় ৬০০ টাকা)। মাল্টিপল এন্ট্রির জন্য আরএম ২০ই একই। কিন্তু এজেন্সি বা অনলাইন সার্ভিস ব্যবহার করলে প্রসেসিং ফি ৩,১৫০ টাকা (আরএম ১০৫) যোগ হয়।
সরকারি চ্যানেলে আবেদন করলে মোট ভিসা খরচ ২০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা। এতে ইনস্যুরেন্স এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন অন্তর্ভুক্ত। যদি আপনি ই-ভিসা আবেদন করেন, তাহলে কনভেনিয়েন্স চার্জ ০.৮% থেকে ১.৭% যোগ হয় কার্ড বা ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে। মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করুন, যাতে সর্বশেষ রেট পান।
ভিসা প্রসেসিং সময় ৪-৮ সপ্তাহ লাগে, তাই আগে থেকে আবেদন করুন। অতিরিক্ত খরচ এড়াতে ডকুমেন্টগুলো নিজে প্রস্তুত করুন – পাসপোর্ট, ফটো, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং ইনভিটেশন লেটার। এভাবে ভিসার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
মালয়েশিয়া টুরিস্ট ভিসা কত টাকা
টুরিস্ট ভিসা হলো সবচেয়ে সহজ এবং সস্তা অপশন, যা ভ্রমণের জন্য আদর্শ। ২০২৫ সালে সরকারি প্রসেসিং ফি মাত্র ৫,৮০০ টাকা। কিন্তু মোট খরচ ৫০,০০০ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা হতে পারে, যদি এজেন্সি ব্যবহার করেন। বিস্তারিত ব্রেকডাউন:
- ভিসা ফি: ৬০০ টাকা (আরএম ২০)
- প্রসেসিং ফি: ৩,১৫০ টাকা
- মেডিকেল চেকআপ: ৫,০০০ টাকা
- রাউন্ড ট্রিপ টিকিট: ১,২০,০০০ টাকা (দুই মুখী)
- হোটেল বুকিং এবং ইনস্যুরেন্স: ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা
- এজেন্সি চার্জ: ২০,০০০-৫০,০০০ টাকা (ঐচ্ছিক)
মালয়েশিয়ার সুন্দর জায়গা যেমন কুয়ালালামপুরের টুইন টাওয়ার বা ল্যাঙ্কাউই দ্বীপ দেখতে এই ভিসায় ৩০ দিন থাকা যায়। আবেদনের জন্য পাসপোর্ট, রিটার্ন টিকিট এবং ফান্ড প্রুফ দেখাতে হয়। অনলাইনে আবেদন করলে খরচ আরও কমে। ২০২৬ সালে ই-ভিসা সিস্টেম আরও সহজ হয়েছে, যা ২-৩ দিনে প্রসেস হয়।
মালয়েশিয়া কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে
কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ মালয়েশিয়ায় কনস্ট্রাকশন, হসপিটালিটি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে চাকরির চাহিদা বেশি। ২০২৬ সালে সরকারি খরচ ৭৮,৯৯০ টাকা, কিন্তু এজেন্সির মাধ্যমে ৪ থেকে ৬ লক্ষ টাকা লাগে। ব্রেকডাউন:
- প্রসেসিং ফি: ৭৮,৯৯০ টাকা (সরকারি)
- ইমপ্লয়মেন্ট পাস: আরএম ৮৪৮ (প্রায় ২৫,০০০ টাকা)
- সিকিউরিটি গ্যারান্টি: আরএম ৭৫০ (২২,০০০ টাকা)
- মেডিকেল: ৫,০০০-৮,০০০ টাকা
- ফ্লাইট: ৬০,০০০-৯০,০০০ টাকা
- রিক্রুটমেন্ট ফি: সর্বোচ্চ ৮০,০০০ টাকা (এমওই অনুযায়ী)
এমপ্লয়ারের স্পনসরশিপ লাগে এবং প্রসেস ৪-৮ সপ্তাহ নেয়। মিনিমাম ওয়েজি আরএম ১,৭০০ (প্রায় ৪০,০০০ টাকা), যা খরচ পূরণ করে। দালাল এড়িয়ে বিএমইটি (বিডিইএস) পোর্টাল ব্যবহার করুন।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়া খুব সহজ, কারণ দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। মোট খরচ ২ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ টাকা। কাজের জন্য ৪-৬ লক্ষ, টুরিস্টের জন্য ১-১.৫ লক্ষ এবং স্টুডেন্টের জন্য ২-৩ লক্ষ (ভিসা সহ, টিউশন আলাদা)।
ফ্লাইটে বিমান ৩-৪ ঘণ্টা লাগে এবং সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া যায়। অতিরিক্ত খরচ: সিম কার্ড ৫০০ টাকা, প্রথম মাসের থাকার খরচ ৩০,০০০ টাকা। সরকারি চ্যানেলে গেলে নিরাপদ এবং সস্তা। ২০২৬ সালে নতুন নিয়মে কলিং ভিসা সহজ হয়েছে, যা দালাল ছাড়াই পাওয়া যায়।
মালয়েশিয়া স্টুডেন্ট ভিসা খরচ
পড়াশোনার জন্য মালয়েশিয়া আদর্শ, কারণ টিউশন ফি কম এবং ইংরেজি মিডিয়াম। ২০২৬ সালে ভিসা ফি আরএম ২০ (৬০০ টাকা) এবং স্টুডেন্ট পাস আরএম ৬০/বছর। মোট খরচ:
- ইভিএমজিএস ফি: ২৫,০০০-৩৫,০০০ টাকা
- টিউশন (ব্যাচেলর): ৩.৮-৭.৭ লক্ষ টাকা/বছর
- লিভিং: ৫০,০০০-৬০,০০০ টাকা/মাস
- ফ্লাইট: ৬০,০০০-৯০,০০০ টাকা
- মেডিকেল: ৫,০০০-৮,০০০ টাকা
প্রথম বছরের মোট ৬-১০ লক্ষ টাকা। আইইএলটস স্কোর ৫.৫ লাগে এবং ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ৮-১০ লক্ষ দেখাতে হয়। পার্ট-টাইম কাজ করে খরচ ম্যানেজ করা যায়।
প্রশ্ন-উত্তর সেকশন
সাধারণত ৪-৮ সপ্তাহ, কিন্তু ই-ভিসায় ২-৩ দিন।
পাসপোর্ট, ফটো, রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট।
২ বছরের জন্য, রিনিউ করা যায়। মিনিমাম ওয়েজি ৪০,০০০ টাকা/মাস।
হ্যাঁ, সেমিস্টার ব্রেকে ২০ ঘণ্টা/সপ্তাহ, আয় ৩০০-৬০০ টাকা/ঘণ্টা।
বিএমইটি বা ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে অনলাইন আবেদন করুন।
মালয়েশিয়া যাওয়া এখন আর স্বপ্ন নয়, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা এবং সতর্কতা দরকার। ২০২৬ সালে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি চ্যানেল ব্যবহার করুন এবং দালাল এড়িয়ে চলুন। টুরিস্ট, কাজ বা পড়াশোনা – যেকোনো উদ্দেশ্যেই যান, আগে সব খরচ হিসাব করে নিন। এতে আপনার যাত্রা সফল এবং স্মরণীয় হবে। আরও তথ্যের জন্য অফিসিয়াল সাইট চেক করুন এবং সফল যাত্রার শুভকামনা!


